বিরামহীণ বৃষ্টি ঝরে ঝরে
আসিল সন্ধ্যা বেলা
তবু বন্ধ হলোনা আজিকার এই
বৃষ্টি পড়ার খেলা।
সারদিন ধরে পারিনি পেরোতে
ছাড়িয়া নিজের ঘর
তাই জানালার কাছে চেয়ার
পাতিয়া বসিলাম তার উপর।
জানালার পাশে বসিয়া থাকিলেও
দৃষ্টি অনেক দূরে
বর্ষণমুখর প্রকৃতিকে আজ
দেখিতেছি প্রাণ ভরে।
বাদলের দিনে কোন কাজ নেই
যেতে পারেনা কৃষক মাঠে
কলসি কাখে লেইয়া বধু
আজ যায়না নদীর ঘাটে।
আজিকার এই প্রকৃতি
নিথর নিস্তব্ধ
শুধু শুনা যায় ঝর ঝর করে
বৃষ্টি পড়ার শব্দ।
রাখাল ছেলে আজ যায়না ঘরে
লইয়া গরুর পাল
শুধু পাতিহাসগুলো ঘরে ফিরিছে
বুঝিয়া সন্ধ্যাকাল।
আজিকার এই পশুপাখীগুলো
পড়ছে অসহায় হয়ে,
গাছের উপর তৈরী বাসাগুলো
বাতাসে নিয়েছে উড়িয়ে।
পাখির ছানা খাওয়া না পেয়ে
কাঁদছে কিচির মিচির করে,
মা পাখিটা সান্তনা দিচ্ছে
মাথায় ডানা ধরে।
তাই স্রষ্টার কাছে করুণা ভিক্ষা
দোয়েল শালিক চায়,
শুধু মাত্র ডোবার ব্যঙ্গগুলো
পানি পেয়ে আনন্দে লাফায়।
পথের ওই বাঁশগুলো
বারে বারে নুয়ে পড়ে মাটিতে
যেন ঘনঘোর বর্ষার মধ্যেও
প্রণাম করেছে স্রষ্ট্রাকে।
দেখিতে দেখিতে বর্ষণমুখর
হয়ে গেল যে কখন রাতী
এ এক অন্য রকম সন্ধ্যা
আজ নেই কোন মাতামাতি।