আজিকার এই ট্রেন ভ্রমন থাকিবে চিরদিন স্মরণ
যমদূত আসার ক্ষনিক আগে
এক স্টেশন হয়ে পার খুঁজিতে অন্য স্টেশন আবার
ট্রেনের ভ্রমণে আজ খুব ভাল লাগে।
বিলের মধ্য দিয়া হাজারো যাত্রী নিয়া
চলছে ট্রেণ আপন মনে
ট্রেনের শব্দ শুনে ভয় পেয়ে আপন মনে
উড়িয়া গেল বক অসীম গগণে।
সাহেব সাহেবানেরা ছেলে আর মেয়েরা
সেজেছে কত রঙ্গ বেরঙ্গে
প্রাণকৌড়ি আর বকদের শালিক ঘুঘু পাখিদের
প্রতিযোগীতা যেন ট্রেনের সঙ্গে।
ট্রেনের জানাল দিয়া বাহিরে তাকাইয়া
দেখিতেছি আজ আমি সূয্যের খেলা
আস্তে আস্তে লাল হইয়া সূয্যটা ডুবে গিয়া
আসিয়া পড়িল আজ সন্ধ্যা বেলা।
দুখানা পাখা মেলে দিয়া হাওয়ার সাতার দিয়া
জোনাকিরা অন্ধকার পথ চলে
দূরের ওই কুড়ে ঘর পড়িল নজর তার উপর
মিটি মিটি প্রদীপ তাতে জ্বলে।
পুলের উপর দিয়া একেবারে সোজা হইয়া
হর্ন বাজাইয়া ট্রেন চলছেই,
লঞ্চ স্টিমারের বাতীগুলো পালওয়ালা নৌকাগুলো
নদীর পানিতে কেবল টলছেই।
আখক্ষেতে মাচা দিয়া তাতে লন্ঠণ জ্বালাইয়া
পাহারা দিতেছে আখ ক্ষেতে,
রাত গভীর হলে শিয়ালেরা দলে দলে
যেন না পারে আখ খেতে।
পাহাড়ের পথ ধরে ঝকঝক আওয়াজ করে
সামনে চলে ট্রেন যাত্রী নিয়ে,
আজ এ কোন রাতে বাদক সাওতালে সাথে সাথে
পাহাড়ী উঠানে নাচে সুন্দরী মেয়ে।
দূর পাহাড় হতে ঝর্ণা বারির স্রোতে
কলকল রবে পানি বয়ে যায়,
যেন চাঁদ আকাশ হতে পৃথিবীতে নেমে এসে
পানির দোলনায়া যেন দোল খায়।
ওই পাহাড়ের বুকে লেবু গাছের ফাঁকে ফাঁকে
ঢালুতে আনারস গাছ বোনা,
দেখি দু নয়নে চাঁদের কিরণে
যেন চিকচিক বালি হল সোনা।
ট্রেনের এমন ভ্রমণ করেছ কি কেউ কখন
দেখিয়াছ এমন দৃশ্য চোখ ভরে?
যদি এমন দেখতে চাও অবসরে বেড়াতে যাও
আনন্দ ভ্রমণ কর ট্রেনে করে।